দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ আগুনে নিহত হয়েছেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সোহেল রানা সুমন (৩০)। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও ভিডিও কলে আট মাসের ছেলে তাসরিফকে দেখেছিলেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে স্ত্রী আমেনার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন সোহেল। এ সময় মোবাইলের পর্দায় ছেলের মুখও দেখেন তিনি। সেটিই যে সন্তানের সঙ্গে তার শেষ দেখা হবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি।
সোহেল আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের বাদলের ছেলে। প্রায় ১০ বছর সৌদি আরবে থাকার পর দেড় বছর আগে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফিরে আমেনাকে বিয়ে করেন। পরে জীবিকার তাগিদে আবার সৌদি আরবে যান। তাদের ঘরে জন্ম নেয় ছেলে তাসরিফ।
স্বজনরা জানান, সোহেলের বাবা বাদল দেড় বছর আগে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। দুই ভাই-বোনের মধ্যে সোহেলই ছিলেন পরিবারের প্রধান ভরসা। বাবার রেখে যাওয়া প্রায় দেড় বিঘা জমি ও মায়ের সামান্য স্বর্ণালংকার বিক্রি করে স্ত্রী-সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আবার সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি।
সোহেলের স্বপ্ন ছিল প্রবাসে কাজ করে অর্থ সঞ্চয় করে দেশে ফিরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সংসার গড়া। কিন্তু রিয়াদের কারখানার আগুনে সেই স্বপ্ন থেমে গেল।
রোববার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরের একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুন লাগে। এতে কারখানায় কর্মরত অন্তত ১৭ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। তাদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ জন রয়েছেন বলে স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে।
সোহেলের মৃত্যুর খবরে তার বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। স্বামীকে হারিয়ে আট মাসের সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী আমেনা। ছেলের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা স্বপ্না বেগমও। বড় ভাইকে হারিয়ে মা ও ভাবির ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তায় সোহেলের ছোট বোন সুবর্ণা।
স্বজনরা বলছেন, পরিবারের জন্য কিছু করার আশায় বিদেশে গিয়েছিলেন সোহেল। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে স্বস্তির জীবন গড়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই না-ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি।
আর আট মাসের তাসরিফ? বাবাকে হারানোর অর্থ এখনো বোঝার বয়স হয়নি তার। অথচ কয়েক ঘণ্টা আগেও ভিডিও কলে যে বাবাকে দেখেছিল, সেই বাবাই আর কোনোদিন ফিরবেন না।
যে আই